Monday, 23 November 2015

চেন্নাই এর ঘরের মাঠে দিল্লির পরীক্ষা

আজ চেন্নাই এর মুখোমুখি দিলি। তবে খেলা যে দুটো দলের মধ্যেই থাকুক না কেন লীগ তালিকার স্থান পরিবর্তন হচ্ছে সব দলেরই। এই মুহূর্তে দিল্লি ১০ ম্যাচ খেলে  সংগ্রহ করেছে ১৮ পয়েন্ট। আরেকদিকে চেন্নাই এর দখলে ১১ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট। দুই দল ই চাইবে নিজেদের তালিকার শীর্ষে নিয়ে যেতে। চেন্নাই যদি আজ জয় পায় তাহলে লীগ তালিকার চতুর্থ স্থানে থাকা নর্থইস্টকে ধরে ফেলবে। দিল্লির ৩ পয়েন্ট পাওয়া মানে কলকাতা পিছিয়ে দিয়ে তালিকার শীর্ষ স্থান দখল করবে। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে আজ হতে চলেছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই।
আজ চোখ থাকবে মেন্ডোজার উপর। আগের ম্যাচেই হ্যাট্রিক পেয়েছেন। এই সিজিনের দুটো হ্যাট্রিক। গোলদাতাদের মধ্যে এখন শীর্ষে তিনি।  দলে আছে রাফায়েল অগাস্ত এর মত ফুটবলার। যিনি  প্রতিপক্ষের আক্রমণকে একেবারে ভেঙে দিতে সমর্থ। অসাধারণ ট্যাকেল ক্ষমতা। আছেন মেন্ডি। অ্যাটাকিং লাইনে এইরকম একজন দক্ষ ফুটবলার মানে দলের আত্মবিশ্বাস বেড়ে যাওয়া। আজ দলকে একটু বুদ্ধি দিয়ে নামতে হবে। দলগত ভাবে খেলতে হবে যাতে কোনরকম ভাবেই প্রতিপক্ষ উপরে উঠতে না পারে। কোচ মাতরাজ্জি বলেছেন " প্রতিপক্ষ যে সহজ নয় তা জানি। তবে আমরা আমাদের সেরাটাই দেখাব। "
দিল্লিতেও আছেন দক্ষ ফুটবলারা। অবশ্যই নজরে থাকবেন রিচাড গাদজে। দলের অন্যতম ভরসা। দিল্লির হয়ে সবথেকে বেশি গোল করেন গাদজে। আছেন মালৌদা। এই ফুটবলার রের অ্যাসিস্ট সেন্স খুব ভাল। বলতেই হবে রিসের কথা। দলের ভাল অবস্থানের জন্য এই ফুটবলার রের নাম বারবার আসবে। ডিফেন্স কে সচল রেখে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কারিগর যে ইনি তা বলাই যায়। কোচ কার্লোস জানান "আমরা চেন্নাই এর ঘরের মাঠে নামব। এতে যেমন ওদের একটা সুবিধা থাকবে সঙ্গে অসুবিধাও থাকবে। নিজের মাঠে দর্শকদের সামনে খেলাটা একটু বেশিই চিন্তার।"
এবার দেখার পালা নিজের ঘরের মাঠে এগিয়ে যেতে পারে কিনা চেন্নাই। নাকি ৩ পয়েন্ট পেয়ে লীগ তালিকার শীর্ষে উঠে আসবে দিল্লি। 
  


Sunday, 22 November 2015

তালিকার শীর্ষে কলকাতা

কলকাতা -৪
গোয়া- ০
কলকাতার ঘরের মাঠে প্রতিপক্ষকে কোন রকম সুযোগ না দিয়ে ৪-০ নিজেদের এক নম্বরে নিয়ে গেল। কলকাতার দর্শকরা নিশ্চয় খুশি।
প্রথম ১ মিনিট গোয়ার দিক থেকে কিছু আক্রমন আসলেও সময় এর সঙ্গে তা হারিয়ে যায়। খেলার আধিপত্য চলে আসে কলকাতার হাতে। ২২ মিনিটের মাথায় দলের হয়ে প্রথম গোল করেন সামেঘ দুতি। অসাধারণ ছিল এই গোল। গ্যভিলনের পাস থেকে বলটা নিয়ে সময় নষ্ট না করেই  জালে জড়িয়ে দেন বলকে। এরপরেই আসে সেই বিশ্বমানের গোল। সামিঘ দুতির পাস থেকে বোরহার গোল। বলাই যায় ইন্ডিয়ান সুপার লীগ এর অন্যতম সেরা গোল। হাবাস আজ নিশ্চয় খুশি হবেন তার দলের পারফরমেন্সএ। হঠাৎ এ পেনাল্টির সুযোগ আসে হিউমের কাছে। আর সেখানে কোন রকম ভুল করেননি তিনি। একটু দাড়িয়ে কাট্টিমনিকে চিন্তিত করে দিয়ে গোল করেন হিউম। আজ বোধহয় হিউমের সেরা উপহার পেলেন এই স্টেডিয়ামে। গোলের সময় হিউমের বাবা উঠে দাঁড়ান। তারপর খুশিতে হাততালি দেন। একজন ছেলের কাছে এরথেকে বড় উপহার আর কিছু হতে পারেনা। এরপর আবার গোল পান দুতি। আজ কলকাতাকে দলগত ভাবে খেলতে দেখা গেছে। প্রথম দিকে রক্ষন ভাগ কিছুটা নড়বরে লাগলেও সময় যেতেই নিজেদের গুছিয়ে নেয় কলকাতা।
গোয়া আজ কোন ভাবেই ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। রক্ষন ভাগকে পুরোপুরি ভেঙে দেয় কলকাতার আক্রমন। প্রথমে কিছু আক্রমন ডুডুর পা থেকে আসলেও তারপর আর দেখা যায়নি। আত্মতুষ্টি কিছুটা পিছিয়ে দিল দলকে। বলতেই হয় জিকো প্রথম থেকেই আজ রক্ষনাত্বক শুরু করেছিল। এটাই দলের ভুল ছিল। তবে কাট্টিমনি বেশ ভাল। কাট্টিমনি আজ বেশ কিছু নিশ্চিত গোল বাঁচিয়েছেন। নয়ত গোল সংখ্যা বাড়ত।
মাঠে আসা ৫১ হাজার ৪০৭ জন  সাক্ষী থাকলেন এক অসাধারণ মুহূর্তের। এখনও পর্যন্ত গোয়া কলকাতাকে হারাতে পারেনি। যথার্থ ভাবেই আজকের হিরো আব দি ম্যাচ সামেঘ দুতি। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পরিশ্রম করেছেন। গোল করেছেন। আক্রমন করেছেন।  এই ম্যাচের পর ১২ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট পেয়ে কলকাতা উঠে এল লীগ শীর্ষে। আর গোয়া ১১ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে। 




Saturday, 21 November 2015

চেন্নাইয়ের অসাধারণ প্রত্যাবর্তন

চেন্নাই-৪
কেরালা-১
চেন্নাই এর ঘরের মাঠেই দর্শকদের এক দারুন সন্ধ্যা উপহার দিল মাতরাজ্জির দল। ৪-১ এ কেরালাকে হারিয়ে খেলায় ফিরে এল  চেন্নাই। প্রতিপক্ষের রক্ষনভাগ একবারে ভেঙে দিয়ে জয় ফুটবলাররা জয় এনে দিল দলকে। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া দলও যে ঘুরে দাঁড়াতে পারে তা আরও একবার প্রমান করল মাতরাজ্জির দল।
ম্যাচের প্রথম থেকেই চেন্নাই আজ নেমেছিল জয়ের জন্য। সেমিফাইনালের লড়াইয়ে টিকে থাকতে এল আজকের ম্যাচ জিততেই হত চেন্নাইকে। আর সেই কাজটাই করল দল। আজকের এই ম্যাচে তৈরি হল নতুন ইতিহাস। মেন্ডোজার হ্যাট্রিক। এই সিজিনে দুটো হ্যাট্রিক পেলেন তিনি। এমনকি শীর্ষ গোলদাতাদের তালিকায় এলানকে পিছনে ফেলে এক নম্বরে উঠে এলেন মেন্ডোজা। মেন্ডোজার ৩টি গোল ছাড়াও আসে ধনচন্দ্রের গোল। তবে আজ আলাদা করে বলতেই হয় মেন্ডোজার কথা। তিনি যে কত ভাল স্ট্রাইকার তা দেখল ফুটবলপ্রেমী। ৮০ মিনিটের মাথায় বাঁ পায়ে  দুরদান্ত আউটসেভ করে। একটু সময় নেয় তারপরই যে দ্বিতীয় গোলটা করেন তা অবশ্যই প্রশংসনীয়। তবে তার তৃতীয় গোলটা পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা দায়ী কেরালা। রক্ষণভাগ পুরো হঠাৎ ই দাড়িয়ে যায় প্রতিপক্ষ। আর সেই সুযোগ কেই কাজে লাগায় চেন্নাই। এডেল বেঁটে বেশ কিছু দুরন্ত বল সেভ করেন। আজ চেন্নাইকে দলগত ভাবে দেখা গেছে। অবশ্যই প্রশংসা প্রাপ্য মেন্ডির। তার পায়ে গোল না আসলেও তিনি আজ যা করেছেন তা শিক্ষণীয়। দলের অধিনায়কের মতই কাজ করেছেন। ম্যাচের শেষে কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে যায় মাঠের ভিতর। শান্ত মাথায় সহ ফুটবলারদের আবার খেলায় ফিরিয়ে নিয়ে আসে। নিশ্চয় এর থেকে শিক্ষা নেবে উঠতি ফুটবলাররা।
কেরলার দলকে আজ কিছুটা ক্লান্ত লেগেছে। ম্যাচের শুরুতে কিছু আক্রমন থাকলেও সময় যেতেই ধিতিয়ে যায় সেই চেষ্টা। কোচ নিশ্চয় পরে ফুটবলারদের জিজ্ঞাসা করবেন রক্ষন ভাগের এই পরিস্থিতির কারন কি? ৯০ মিনিটের শেষ অবধি দলকে চেষ্টা করে যেতে হবে এমনই নিয়ম ফুটবলের। কিন্তু আজ কেরালার রক্ষনভাগ হঠাৎ  থেমে যায়। আক্রমনও খুব একটা আসেনি। তবে এরমধ্যেও হসুর পা থেকে কিছু চেষ্টা দেখা যায়। কিন্তু কাজের কাজ হয়নি।  মেহেতাবের সাজিয়ে দেওয়া বলটাকে সান্দেস গোল এ পরিণত করতে পারেননি। ম্যাচের একেবারে শেষের দিকে হঠাৎ ই গোল পান জার্মান। তবে চেন্নাই এর ধনচন্দ্রএর ভুলে এই সুযোগ চলে আসে জার্মানের কাছে। যদিও এই গোল কাজের কাজটি করতে পারেনি দলের জন্য। কেরালাকে হতাশ, দায়িত্বহীন মনে হচ্ছিল আজ। যে কোন কিছুতেই লড়াই ছাড়লে চলবে না। এই ম্নত্র শিখতেই হবে। কেরালাকে প্রতিটা পদক্ষেপে লড়াকু মানসিকতা দিয়ে চেষ্টা করতে হবে। এটারই অভাব লাগছিল দলে।
বাকি সবাইকে পিছনে ফেলে হিরো অব দি ম্যাচের সম্মান ছিনিয়ে নেন মেন্ডোজা। ১০ ম্যাচে ৯টি গোলের অধিকারী তিনি।  এই টানটান উত্তেজনার ম্যাচে হলুদ কার্ড দেখেন ধনচন্দ্র, পতেনযা। । হলুদ কার্ডের কারনে পতেনযা পরের ম্যাচ খেলতে পারবেনা। এলানো আজ মাঠে না থাকলেও দল বেশ সপ্রতিভ লেগেছে এই ম্যাচের শেষে চেন্নাই উঠে এল ৬ এ। ১১ পয়েন্ট নিয়ে কেরালা রইল ৮। সাপ লুডোর মত প্রতিদিন ই প্রত্যেকটি দল উঠছে নামছে।





চেন্নাই এর মুখোমুখি কেরালা


আজ মুখোমুখি চেন্নাই বনাম পুনে। ১০ ম্যাচে কেরালার দখলে ১১, চেন্নাই এর কাছে রয়েছে ১০ পয়েন্ট। এই মুহূর্তে চেন্নাই এর বেশি কিছু ভাবার নেই জয় ছাড়া। কোচ মাতরাজ্জি বলেন "একটা একটা ম্যাচ ভাবতে চাই।" চেন্নাই এর হারাবার কিছু নেই একাটাই লক্ষ্য জয়। মাতরাজ্জির দল পরপর তিন ম্যাচে হারে। ফলে সেমি ফাইনালে টিকে থাকতে হলে শেষ চার ম্যাচ জিততেই হবে। আজকের পর দিল্লি ডায়নামোস, মুম্বাই সিটি এফ সি, এফ সি পুনে সিটির এর সঙ্গে তিনটে ম্যাচের সুযোগ পাবে। চেন্নাই এর মুল সমস্যা যে এই দল তাকিয়ে থাকে তিন জনের দিকে। স্টিভেন মেন্ডোজা, এলানো ব্লুমার, রাফায়েল অগস্তো। কোচ নিশ্চয় নতুন কিছু প্ল্যান নিয়ে মাঠে নামবেন। আজ দেখার পালা কোচের ভরসার এই তিন ফুটবলারের জাদু দেখা যায় কিনা। কেরালাকেও সেমিফাইনালের দিকে টিকে থাকতে হলে ম্যাচ জিততেই হবে। দলের কোচ বলেন " ই মুহূর্তে দুই দলের কাছে একটাই লক্ষ্য। ম্যাচ থেকে তিন পয়েন্ট। গত ম্যাচে নর্থইস্টকে ৪-১ হারিয়ে কিছুটা উপরে উঠে এসেছে দল। আর এই জেতাই কিছুটা আত্মবিশ্বাস দেবে দলকে। দলে আছে আন্তোনিয় জার্মানের মত ফুটবলার, হসু, ইসফাক আছে যারা ম্যাচের গোলদাতা হতেই পারেন। কেরালা বুদ্ধি দিয়ে খেললে ম্যাচ নিজেদের দখলে করতে পারেন। রক্ষন ভাগ ভাল। দলকে আজ এমন ভাবে সাজাতে হবে যেখানে প্রতিপক্ষ কোন ভাবেই উপরে উঠতে না পারে। আজ দলের জন্য দরকার একত্রিত থাকা। যখন আক্রমণে উঠবে একসঙ্গে ৪/৫ জন। আবার রক্ষনেও ৪/৫ জন। এই ভাবে বিপরীত দলকে ঘিরে ধরতে হবে। আজকের ম্যাচে দেখার পালা কারা জ্বলে উঠতে পারে। কারা পায় ৩ পয়েন্ট।

Friday, 20 November 2015

লীগ টেবিলে ৪ এ নর্থইস্ট


নর্থইস্ট-২
মুম্বাই-০ 
শুক্রবার গুয়াহাটির ইন্দিরাগান্ধি স্টেডিয়াম দেখল এক অসাধারণ ম্যাচ। যেখানে দুই দলই প্রথম চার এ থাকার প্রাণপণ চেষ্টা করেছে। তবে হয়ত মুম্বাই এর ভাগ্য সুপ্রসন্ন নয়। কারন যখন তালিকার নিচে থাকা দল ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। ফিরে আসার চেষ্টা করছে ঠিক তখনই প্রথম দিকে থেকেও ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে তারা। ১৫ হাজার ১২৩ জন ভর্তি স্টেডিয়ামে নর্থইস্টের কাছে ২-০ এ হার মুম্বাই। ফুটবলার তথা দলের কোচ মাঠে থেকেও কাজের কাজটি করতে পারলনা মুম্বাই।
ম্যাচের প্রথম থেকেই খেলার আধিপত্য করে নিতে থাকে সিজার ফেরিয়াসের দল। ৪১ মিনিটের মাথায় কাজের কাজটি করে ফেলেন ব্রুনো আরিয়াস। দলের প্রথমার্ধে গোল করা যেকোন দলের পক্ষে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তোলে। সেই কাজটি করে ফেলেন সিজার ফেরিয়াসের ছেলেরা। কামারাকে কাল বেশ সপ্রতিভ লেগেছে। গোলের পাওয়ার জন্য মরিয়া যে দল তা বোঝা যাচ্ছিল।। দ্বিতীয়ার্ধের পর নর্থইস্ট যেন জ্বলে উঠল। কোন ভাবেই প্রতিপক্ষ জায়গা ছেড়ে দিতে রাজি নয় তারা। নিকোলাস ভেলেয ম্যাচকে এর গতি আরও বাড়িয়ে দেয়। বেশকিছু চেষ্টা দেখা গেছে তার পা থেকে। তবে বলতেই হয় কামারার কথা। প্রথম থেকেই বেশ পরিশ্রম করেছে। এই ম্যাচে কামারার গোল দরকার ছিল। তার চেষ্টার জন্য। আর সেই বহু আকাঙ্ক্ষিত গোল আসে ৮৫ মিনিটে। কথা আসবে ভেলেয আর সিমাও এর।  দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ভেলেয আর সিমাও কে বারবার জ্বলে উঠতে দেখা যাচ্ছিল। সিমাও গোল না পেলেও ফ্রি কিক টা অসাধারণ ছিল। রেহেনেশ এর প্রশংসা করতেই হয়। শেষ ম্যাচে রেহেনেশকে সেই ভাবে দেখা না গেলেও এই ম্যাচে আবার ফিরে এসেছেন।
মুম্বাই এর এই ম্যাচে জয়ের দরকার অবশ্যই ছিল। কোচ নিজে ফুটবলাররের ভূমিকা নিয়েও দলকে এগোতে পারলেন না। নিকলাস অ্যাানেলকার দল এ আত্মবিশ্বাসের অভাব বারবার চোখে পড়ছিল। তবে সুব্রত পালের কথা অবশ্যই বলতে হয়। বেশ কিছু নিশ্চিত গোল সেভ করেছে।  সারান কিছু চেষ্টা করলেও ফল আসেনি।
এই ম্যাচে হিরো অব দি ম্যাচ কামারা। এই সিদ্ধান্ত একেবারেই সঠিক। ম্যাচের শুরু থেকেই দারুন পরিশ্রম করেছে। এই ম্যাচের পর নর্থইস্ট উঠে এল চারে। কলকাতার থেকে ১ পয়েন্টে পিছিয়ে সিজার ফেরিয়াসের দল।



মুখোমুখি নর্থইস্ট বনাম মুম্বাই

কিছুক্ষন পর ইন্দিরাগান্ধি স্টেডিয়ামে শুরু হতে চলেছে আরও একটি উত্তেজক ম্যাচ। নর্থইস্ট বনাম মুম্বাই। ১০ ম্যাচ খেলে নর্থইস্ট এর সংগ্রহে এখন ১৩। মুম্বাইও ১০ ম্যাচ খেলে পেয়েছে ১২ পয়েন্ট। সুতরাং বলার অপেক্ষা রাখেনা যে আজ দুই দল ই ঝাঁপাবে ৩ পয়েন্টের জন্য।
নর্থইস্টের কোচ সিজার ফেরিয়াস জানেন আজকের ম্যাচে গুরুত্ব। তিনি বলেন "আমরা তৈরি ৯০ মিনিটের জন্য। জয় আসবেই।" তবে কোচ জানেন যে গত ম্যাচে প্রতিপক্ষ মুম্বাই গোয়ার কাছে ৭-০ এ হারে। তাই অ্যানেলকা নিশ্চয় আজ সেই ভুল গুলো করবেন না। ফলে ম্যাচে যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই থাকবে তা বোঝা যাচ্ছে। কোচ বলেন এই বছর আই এস এল এ ভারতীয়দের বারবার জ্বলে উঠতে দেখা গেছে। এটা ভারতীয় ফুটবলের কাছে খুশির খবর। কিন্তু এই সিজিনে ম্যাচ পরপর থাকায় প্রভাব পড়ছে দলের উপর। যেমন গত ম্যাচে যখন গোয়া ৯ দিনের ছুটির পর খেলছে সেখানে মুম্বাই ৩ দিন পরই লড়াইয়ে নামছে। এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে ফলাফলে।
এই মুহূর্তে প্রত্যেক দল ই  চাইছে জয়। কারন স্কোরবোর্ডে সবাই প্রায় কাছাকাছি। পরপর ম্যাচ জিতলেই তারা এগিয়ে যাবে সেমি ফাইনালের দিকে। তেমনই মুম্বাই চাইছে গত ম্যাচের কথা ভুলে সামনে তাকাতে। কোচ এবং দলের ফুটবলার অ্যাানেলকা জানান "দলের পক্ষে ভাল জেতা সেটাই করতে চাই। আজকে নর্থইস্টের সঙ্গে লড়াইতেই মন দিতে চাই। আমরা জানি আমরা একটা সুযোগ পেয়েছি সেটা কাজে লাগাতে হবে। আশা করি ভাল কিছু হবে। তবে যদি না হয় তাহলে সত্যি জানিনা কি হবে!" ১০ ম্যাচ খেলে নর্থইস্টের কাছে ১২ পয়েন্ট। ফলে আজ ম্যাচ জিততে পারলে ছুঁয়ে ফেলবে পুনেকে। অ্যাানেলকা তিনি কোনরকম নতুন কিছু প্ল্যান করছেননা। কারন এখন নতুন কিছু চেষ্টা করা ঠিক নয়। প্রতিপক্ষকে বকা বানিয়ে জয় ই একমাত্র লক্ষ্য।
আর কিছু সময় পর মাঠে শুরু হবে ৫ বনাম ৬ এর লড়াই। জিতলে লীগ তালিকার বদল আবার ঘটবে। এবার দেখার পালা, সিজার ফেরিয়াস বুদ্ধি আর ডিফেন্স এর সাহায্য নিয়ে উঠে আসতে পারবে তালিকার ৪ নম্বরে নাকি কোন নতুন প্ল্যান ছাড়া দলে ভরসা রেখে গত ম্যাচের লজ্জাজনক হার ভুলে ছুতে পারে কিনা পুনেকে।  




Thursday, 19 November 2015

তালিকার দ্বিতীয় স্থানে দিল্লি

দিল্লি-৩
পুনে -১ 
টানটান উত্তেজনায় ভরপুর দিল্লির নেহেরু স্টেডিয়াম দেখল জমজমাট ম্যাচ। লীগ তালিকার ৩ বনাম ৪ এর লড়াই। দুই দলের কাছে ছিল একটাই উদ্দেশ্য। লীগ তালিকার উপরে ওঠা। শেষপর্যন্ত ৩-১ জিতল দিল্লি। এর আগে পর্যন্ত পুনেকে হারাতে পারেনি দিল্লি। দিল্লি গড়ল নতুন ইতিহাস।
ম্যাচের শুরু থেকেই দিল্লি নেমেছিল দারুন উদ্যম নিয়ে। খেলার শুরুতেই একটা সুযোগ এসে যায় তাদের কাছে। সেই মুহূর্তে সবাই নিশ্চয় ভাবছিলেন দ্রুত গোলের তালিকায় আরও একটা সংযোজন হবে! কিন্তু পরাস্ত হতে হয় দিল্লিকে। শুরু থেকেই অসাধারণ ভূমিকা নিয়েছেন লেন। একের পর আক্রমণ উঠে আসে তার পা থেকে। বলতেই হয় ডগলাসের কথা। কোন দলে এই রকম গোলকিপার নিশ্চয় চাইবেন কোচেরা। একের পর এক আসা আক্রমণ রুখে দিচ্ছিলেন সুন্দরভাবে। এই ম্যাচে দিল্লিকে দেখা গেছে অন্যভাবে। সাধারণত কোচ একজন স্ট্রাইকারকে মাঠে নামান তবে আজ প্রথম থেকেই দুজন ছিল। কোচ জানতেন বিপক্ষের রক্ষনভাগে আঘাত আনতে হবে। আর এই প্ল্যানেই বাজিমাত করলেন কার্লোস। গোলের সংখ্যা ৩ হলেও আরও কিছু হতেই পারত। রবিন সিং, মালৌদা, গাতযে বেশ কিছু সুযোগ হারান। ৩৬  মিনিটের মাথায় হঠাৎ করেই গোল আসে আদিল নবির পা থেকে। তবে এক্ষেত্রে বলতেই হয় অরিন্দমের ভুলের জন্যই এই সুযোগ আসে দিল্লির কাছে।  এরপর কর্নার থেকে গোল পান আনাস। এইসময় অরিন্দমের কিছুই করার ছিল না। কারন আনাস বলটাকে গোলকিপারের সামনে বাউন্স করে। এক্ষেত্রে কোন গোলকিপারের এর কিছু করার থাকে না। বল বাউন্স হলে বল লাফাবেই সেখানেই প্রতিহত হতে হয় বিপক্ষকে।  ৮৭ মিনিটের মাথায় যেভাবে রিসে গোল করেন তা অসামান্য। মালৌদা গোল না পেলেও যে ব্যাকটা করেন তাতেই বুঝিয়ে দেন তার দক্ষতা। কুইক কাউন্টার, অ্যাটাক, ডিফেন্স প্লাস পয়েন্ট হিসেবে কাজে লেগেছে দিল্লির। বলতেই হয়  ডেভিড প্লাট এর কাছে কার্লোসের এই আক্রমণাত্মক বুদ্ধির জয় হয়।
পুনে প্রথম দিকে আক্রমণের সুযোগ না পেলেও দ্বিতীয়ার্ধে বেশ কিছু সুযোগ পায়। ম্যাচের শেষ মিনিটে মুতুর পা থেকে গোল আসলেও তাতে ল্যাব হয়নি পুনের। কোচ ডেভিড প্লাট আজকের পর নিশ্চয় দল কে প্রশ্ন করবেন যে কর্নারের সময় ম্যানমারকিং কিসের সমস্যা ছিল। আর এটাই হয় হারার কারন। তবে অরিন্দম বেশ কিছু নিশ্চিত গোল বাঁচিয়েছেন। নয়ত গোলের ব্যবধান আরও বাড়ত।
তবে ম্যাচে ছিল বেশ উত্তেজনা। একের পর এক কর্নার, ফ্রি কিক, হলুদ কার্ডে জেরবার ৯০ মিনিট। জনশন, শরে, মালৌদা, গভিন। কিন্তু মালউদার ওই সুশান্ত এর পায়ে চোট দেওয়া একেবারেই ভুল। লাল কার্ডের মত অপরাধ। একজন আন্তর্জাতিক ফুটবলারের থেকে এটা আশা করা যায়না। এই ম্যাচের শেষে দিল্লি তালিকার ২ এবং পুনে রইল চতুর্থ স্থানে।  প্রত্যেক মুহূর্তে পাল্টাচ্ছে  লীগ তালিকা। লড়াই প্রথম চারের।